মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি ২০২৩

আপনি কি অনলাইনে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি গুলি জানতে চান?

এই আর্টিকেলে আমি আপনাকে বেশ কয়েকটি মোবাইলে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি জানিয়ে দেবার চেষ্টা করব।

বেশ কয়েক বছর ধরে আমি অনলাইনে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করছি আর সেগুলি আমি আপনার কাছে তুলে ধরব।

মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার একাধিক পদ্ধতি আছে। যদি আপনার কাছে একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং নেট কানেকশন থাকে, তবে আজ থেকে আপনি কাজ করে অনলাইন ইনকাম শুরু করতে পারেন।

মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি
মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি

কয়েকটি মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি হলো-

ইউটিউব ভিডিও তৈরী করে

আপনার মোবাইলটি ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করার জন্য যথেষ্ট। মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড থেকে শুরু করে এডিট ও আপলোড পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া মোবাইল ফোনেই করা যায়।

সহজে বললে মোবাইল দিয়ে ভিডিও তৈরী করে ইউটিউবে আপলোড করে গুগল এডসেন্স প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে ইনকাম করা যায়।

ভাবছেন কি বিষয়ে ইউটিউবে ভিডিও বানাবেন।

বর্তমানে ইউটিউবে বিভিন্ন প্রকারের ভিডিও কনটেন্ট এর দর্শক রয়েছে। কোন একটি বিষয় বেছে নিয়ে সেই বিষয়ক ভিডিও তৈরী করে ইউটিউবে আপলোড করলে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।

তবে এটি জেনে রাখুন আপনাকে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে গেলে আপনাকে গুগলের একটি প্রোগ্রাম গুগল এডসেন্সে যুক্ত হতে হবে।

এটিকে ইউটিউব মনিটাইজেশন বলা হয়।

youtube চ্যানেল মনিটাইজেশন করতে গেলে দুটি শর্ত আপনাকে পূরণ করতে হবে সেগুলি হল-

বিগত এক বছরে চার হাজার ঘন্টা ওয়াচ টাইম এবং এক হাজারটি সাবস্ক্রাইবার।

ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে গেলে এই দুটি শর্ত পূরণ করতেই হবে।

তবে এডসেন্সে থেকে ইনকাম করা ছাড়াও আরো ইনকাম করার পদ্ধতি আছে।

সেগুলি হল স্পন্সারশিপ এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

ব্লগিং করে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম

বর্তমানে ভিডিওর সাথে সাথে লেখা কনটেন্টের চাহিদাও আছে।

তাই আপনি আপনার মোবাইল ফোনটি দিয়ে লেখালেখি করে অনলাইনে ইনকাম করতে পারেন।

তবে এজন্য আপনাকে একটি ব্লগ ওয়েবসাইট খুলতে হবে।

কিছুদিন লেখালেখি করার পর আপনি গুগল এডসেন্সের জন্য এপ্লাই করবেন।

এপ্লাই করার পর সাইটটি এপ্রুভ হয়ে যাবে। এডসেন্সে এপ্রুভ হয়ে গেলে ইনকাম শুরু করতে পারবেন।

ব্লগ সেটাপ করতে ওয়ার্ডপ্রেস অথবা ব্লগার ডট কম ব্যবহার করে ওয়েবসাইটটি তৈরি করে নিন।

এরপর আস্তে আস্তে লেখালেখি করা শুরু করুন। ব্লগে মানসম্পন্ন লেখা থাকলে গুগল এডসেন্সের অ্যাপ্রুভাল পেতে কোন অসুবিধা হবে না।

এডসেন্স এপ্রুভ হয়ে গেলে আপনার ব্লগে এড দেখে ইনকাম শুরু করতে পারবেন।

তাছাড়া গুগল এডসেন্স ছাড়াও স্পন্সরড পোস্ট এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে বেশ ভালো পরিমাণে ইনকাম করা যায়।

তবে আপনার মোবাইল দিয়ে লেখালেখি বা ব্লগিং করে ইনকাম করার জন্য একটি ডোমেন এবং হোস্টিং কিনতে হবে।

তার জন্য কিছু খরচ আপনাকে বহন করতে হবে। যদিও আপনি ব্লগার ডট কমে হোস্টিং ফ্রিতে পেয়ে যাবেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম

ফ্রিল্যান্সিং মানে হল কোন কোম্পানির অধীনে না থেকে স্বাধীনভাবে নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে টাকা ইনকাম করাকেই বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং।

বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে ফ্রিল্যান্সারর নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মোবাইল দিয়ে বেশ ভালো পরিমানে টাকা ইনকাম করতে পারেন।

আপনিও যদি মোবাইল দিয়ে এই কাজটি করে টাকা ইনকাম করতে চান তবে আপনাকে কোন একটি বিষয়ে ভালো দক্ষতা থাকতে হবে অর্থাৎ শিখে নিতে হবে।

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে একাধিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একাধিক কাজ করে ইনকাম করতে পারেন।

রকম কয়েকটি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ হল-

কনটেন্ট রাইটিং, ট্রান্সলেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফেসবুক অ্যাড ইত্যাদি।

ফটো বিক্রি করে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম

আপনি যদি মোবাইল ফোনটি দিয়ে ভালো ছবি তুলতে জানেন তবে সেই ছবিটি বিক্রি করে বেশ ভালো পরিমানে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

হতে পারে ছবি তোলা আপনার একটি প্যাশন।

আপনি আপনার এই প্যাশন কে ব্যবহার করে মোবাইল ফোনটি দিয়েই ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করবেন।

তবে আপনার এই ছবিগুলি বিক্রি করার জন্য ছবি বিক্রির ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেস আছে সেখানে আপনাকে ছবিগুলি বিক্রি করতে হবে।

এরকম কয়েকটি ছবি বিক্রির ওয়েবসাইট বা মার্কেট প্রেস হলো – শাটারস্টক, ড্রিমসটাইম ইত্যাদী।

এই সকল সাইটে প্রায় সকল প্রকারের ছবি বিক্রি করা যায়। তাই যে রকমই ছবি তুলুন না কেন ছবিগুলি এই সাইটগুলিতে আপলোড করে দিন।

কোর্স বিক্রি করে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম

ইন্টারনেট সস্তা হওয়ার জন্য বর্তমানে সবাই অনলাইনে পড়াশোনা শুরু করেছে।

তাই আপনারো যদি কোন বিষয়ে পড়াশোনা থাকে আপনিও ছাত্রদেরকে পরিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

তবে এক্ষেত্রে ছাত্রদের পড়াবার জন্য কোর্স তৈরি করতে হবে এবং সেই কোর্স বিক্রি করে বেশ ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ধরুন মার্কেটিং এর একটি বিষয় ফেসবুক অ্যাড। এই ফেসবুক অ্যাড এর বিষয়ে আপনি বেশ ভালো জানেন।

এ ক্ষেত্রে আপনি ফেসবুকে একটি কোর্স তৈরি করে কোর্সটি মার্কেটিং করে বিক্রি করতে পারবেন।

ফেসবুক ই-কমার্স দ্বারা মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম

আগে ই-কমার্স ব্যবসা করা বেশ কঠিন ছিলো। তবে বর্তমানে ফেসবুক মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে যে কোন পণ্য অনলাইনে মোবাইল ফোন দিয়ে বিক্রি করা সম্ভব।

বর্তমানে ফেসবুকে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহারকারী আছে। এরা করতে কি হয়ে উঠতে পারে আপনার ই-কমার্স ব্যবসার কাস্টমার।

তবে এই ব্যবসা করতে আপনাকে কিছু টাকা পণ্য কিনতে এবং এড চালাতে বিনিয়োগ করতে হবে।

পণ্যগুলি ফেসবুক মার্কেটপ্লেস যোগ করুন এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীদের শেয়ার করুন।

যারা আপনার পন্য কিনতে ইচ্ছুক হবে তারা আপনার যোগাযোগ করবে ফলে আপনার পন্য বিক্রি হতে বেশি দিন লাগবে না।

বর্তমানে অনলাইন শপিং এর জনপ্রিয়তার জন্য ফেসবুক মার্কেটপ্লেস গুলি থেকে বিক্রির পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাই আপনি এই বিষয়টি মাথায় রেখে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে এই ওয়েবসাইটি শুরু করতে পারেন ।

(মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি)

ফেসবুক মনিটাইজেশন দ্বারা মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম

ইউটিউবের মতোই ফেসবুকেও অ্যাড লাগিয়ে টাকা ইনকাম করা যায়। ফেসবুক পেজে ভিডিও বা আর্টিকেল পোস্ট করে আয় করা সম্ভব।

তবে ফেসবুক ভিডিও থেকে ইনকাম করতে যেই শর্তগুলি পূরণ করতে হবে তা হল-

• গত এক মাসের মধ্যে ৬ লক্ষ মিনিট ওয়াচ টাইম।

• দশ হাজার পেজ ফলোয়ার।

• সর্বনিম্ন পাঁচটি ফেসবুক ভিডিও।

এমনিতে আপনি ইউটিউবের জন্য যে ভিডিও তৈরি করবেন তা ফেসবুকে আপলোড করে দু জায়গা থেকেই ইনকাম করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে আপনার ইনকাম ডবল হবে এবং সফলতাও আসবে।

ফেসবুক থেকে ইনকাম করার জন্য একাধিক পদ্ধতি আছে সেগুলি হল- instem ad, ফ্যান সাবস্ক্রিপশন, ব্র্যান্ডেড কনটেন্ট।

ফেসবুকের ভিডিও যেহেতু শেয়ার করে খুব সহজে ভাইরাল করা যায় তাই ফেসবুক পেজটাইজেশন করা খুবই সহজ।

রিসেলিং ব্যবসা করে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম

রিসেলিং ব্যবসাকে সব থেকে কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা বলা হয়।

যেমন কোন একটি জিনিস আপনি ৫০ টাকায় কিনলেন এবং তা পরে ষাট টাকায় বিক্রি করে দিলেন। বাড়তি যে দামটি আপনি পেলেন সেটি আপনার লাভ।

রিসেলিং ব্যবসা মূলত পুনরায় পন্য বিক্রি করার একটি মডেল।

আপনি অনলাইনে দোকান তৈরি করে পণ্য এড করতে পারবেন। তারপর যখন অর্ডার পাবেন তখন কম দামে কিনে ওই জিনিসটি যে কিনবে তার কাছে পৌঁছে দেবেন।

এই ব্যবসার সবচেয়ে ভালো সুবিধা হলো এখানে আপনাকে পণ্যগুলি জমা করে রাখার জন্য টাকা খরচ করতে হবে না।

ফোন থেকেই আপনি সমস্ত বিষয়টি কন্ট্রোল করতে পারবেন।

ইন্সটাগ্রাম থেকে মোবাইল দিয়ে টাকা আয়

ইনস্টাগ্রাম কে কেবলমাত্র একটি ফটো বা ভিডিও শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম ভাববেন না, এখান থেকেও ভালো পরিমাণে আয় করা সম্ভব।

instagram থেকে একাধিক পদ্ধতির সাহায্যে ইনকাম করা সম্ভব।

instagram থেকে ইনকাম করতে কতকগুলি কাজ আপনাকে করতে হবে। সেগুলি হল-

• একটি আকর্ষণীয় প্রোফাইল বানান।

• একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে পোস্ট করুন।

• পোস্টগুলি যেমন আকর্ষণীয় হয়।

• একই রকমের প্রোফাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বানান

• ফলোয়ারদের সাথে যোগাযোগ তৈরি করুন।

Instagram থেকে মোবাইল দিয়ে অনলাইন ইনকাম করার পদ্ধতিগুলি হল-

• অর্থের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট প্রমোট করা

• অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ যোগ দিয়ে।

• নিজের পণ্য বিক্রি করে।

অন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় মত instagram এ কনটেন্টের প্রচুর চাহিদা আছে। এই চাহিদা অনুযায়ী কনটেন্ট দিতে পারেন সে ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল পরিচিত হয়ে যাবে ফলে আপনি তাড়াতাড়ি অনলাইন ইনকাম করতে পারবেন।

মাইক্রোওয়ার্ক সাইট থেকে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম

বর্তমানে এমন অনেক ওয়েবসাইট পাওয়া যায় যেখানে ছোটখাটো বিভিন্ন কাজ করে বেশ ভালো পরিমাণ ইনকাম করা যায়।

কাজ গুলি হল এরকম যেমন- অ্যাপ ইনস্টল, ভিডিও দেখা, লাইক করা, কমেন্ট করা ইত্যাদি।

এই কাজের বিনিময়ে এই সাইটগুলি বেশ ভালো পরিমাণে টাকা দেয়।

এই ওয়েবসাইটগুলির সুবিধা হল যে কেউ, যেকোনো সময়, যেকোনো ডিভাইস থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

জনপ্রিয় মাইক্রোওয়ার্ক সাইট হলো- মাইক্রোওয়ার্কার্স, পিকোওয়ার্কার্স ইত্যাদি।

(মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি)

ইনভেস্টমেন্ট বা ট্রেডিং সাইট থেকে মোবাইল দিয়ে ইনকাম

ব্যাংকে টাকা রাখলে তার বিনিময়ে ব্যাংক আমাদের রিটার্ন দেয় এটা বেশ ভালো করেই জানা।

কিন্তু ব্যাংক থেকে বেশি পরিমাণে উপার্জন করতে প্রচুর পরিমাণে টাকা ইনভেস্ট করতে হয়।

কিন্তু এই ইনভেস্টমেন্ট সাইটগুলি কম পরিমাণে টাকা ইনভেস্ট করে বেশ ভালো পরিমানে রিটার্ন দেয়।

তবে টাকা বিনিয়োগের এই সাইট গুলির এই আড়ালে প্রতারিত হবার সম্ভাবনা বেশ ভালই থাকে।

তাই টাকা বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগের ওয়েবসাইটটি বেশ ভালোভাবেই পরীক্ষা করে নেবেন।

(মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি)

ড্রাইভিং করে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি

বর্তমানে দেশে রাইট শেয়ারিং সার্ভিস গুলি ব্যাপক পপুলার হয়ে উঠেছে। আপনার যদি একটি গাড়ি এবং একটি স্মার্ট ফোন থাকে তবে এই কাজটি শুরু করতে পারবেন।

পাঠাও বাট এরকম রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলিতে পার্ট টাইম কাজ করে ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

যদি আপনি এটি খুব কম সময় কাজটি করেন তবেও আপনি আপনার কলেজের টাকা তুলতে পারবেন।

(মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি)

Rate this post

হ্যালো আমি অমিত মন্ডল। বর্তমানে ব্লগিং এর সাথে ইউটিউবেও কাজ করি। লেখালেখির মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তন করছি। বর্তমানে নতুন কিছু শেখার সাথে সাথে অন্যকেও শেখানোর চেষ্টা করছি।

Leave a Comment